Wednesday , August 21 2019
Breaking News
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / বিনোদন / ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে বিজ্ঞাপন, ক্ষমা চাইলেন হুমায়ূন পুত্র নুহাশ

ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে বিজ্ঞাপন, ক্ষমা চাইলেন হুমায়ূন পুত্র নুহাশ

রানিং রাফি’ নামে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত একটি বিজ্ঞাপনের জন্য সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হয়েছে তরুণ নির্মাতা হুমায়ন পুত্র নুহাশকে।

বিজ্ঞাপনটি অনলাইনে প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তাকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সমালোচনা এবং বিতর্কের মাঝেই বিজ্ঞাপনটির জন্য ক্ষমা চাইলেন নুহাশ হুমায়ূন।

গতকাল বুধবার বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে এমন বিজ্ঞাপন নির্মাণের জন্য ক্ষমা চান নুহাশ।স্বাধীন ৭১ এর পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো:

‘আমার নির্মিত নতুন একটা বিজ্ঞাপন নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আমি এরসাথে কিছু যোগ করতে চাই।

এই বিজ্ঞাপনটি আমি নির্মাণ করেছি কিন্তু এটার মুল ভাবনা আমার ছিল না। থার্ড পার্টি যখন কনসেপ্টটা-টা দেয়, আমার কাছে ভাল লাগে। কনসেপ্টটা হলো পরিবার নিয়ে। একটা প্রত্যন্ত গ্রাম। যেখানে মুসলিমরা হলো সংখ্যালঘু। এটা রমজান মাসের উপর ফোকাস করা একটা বিজ্ঞাপন। কিন্তু এর মূল ভাবনা শুধু রমজানের রোজা রাখায় সীমাবদ্ধ না। এটা একাত্মতা আর বন্ধনেরও গল্প। আমার কাজটি যেন বাস্তবসম্মত হয়, তাই আমি আমার টিমে এথনিক কমিয়্যুনিটি থেকে প্রতিনিধি রেখেছিলাম।

কিন্তু যেহেতু বিজ্ঞাপনের প্রথমে লেখা দেখায়- ‘অ্যা নুহাশ হুমায়ূন ফিল্ম’, তাই পরিচালক হিসাবে এর সব দায়িত্ব আমারই। এই বিজ্ঞাপনটা আমিই নির্মাণ করেছি, গল্পটাও আমার পছন্দ হয়েছে, এর স্ক্রিপ্ট আমি পরিমার্জন করেছি, যেই সোর্স থেকে তথ্য পেয়েছি –তাও বিশ্বাস করেই ব্যাবহার করেছি। এই বিজ্ঞাপনের সব দায়দায়িত্ব মাথায় নিয়েই, আমি গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি তাদের কাছে, যারা বিজ্ঞাপনটি দেখে কোনভাবে কষ্ট পেয়েছেন অথবা যাদের কাছে মনে হয়েছে আমি চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছি। আমি বিনীত ভাবে জানাতে চাই, কাউকে কষ্ট দেয়া বা আঘাত করা কখনই আমার উদ্দেশ্য ছিলনা।

চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর সমস্যা মিডিয়াতে তেমনভাবে সামনে আসেনা। আমরা সেইসব গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকে বাদ দিয়ে বিজ্ঞাপনটা নির্মাণ করেছি খুব সরলীকরণ করে, দেখে ভাল লাগবে এমন একটা গল্প নিয়ে। যেখানে অবশ্যই আগে চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সেইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসা প্রয়োজন ছিল।

অনেক মানুষ আমাকে তাদের মতামত জানাচ্ছেন। কিছু ভাল, কিছু খারাপ আর কিছু বেশ কঠিন। অবশ্যই এইসব মতামত আমাকে নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরো অনেক দায়িত্ববান ও যত্নশীল করে তুলবে।

আমি এটাও দেখলাম অনেকেই এখানে টেনে আনছেন আমার পরিবারকে, ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন আমাকে, যেই ছেলেটি বিজ্ঞাপনের প্রধান ভুমিকায় অভিনয় করেছেন-তাকেও নোংরা ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এইসব ঘৃণা প্রকাশ মূল বিষয়ের সাথে সংগতিহীন ।

এই বিজ্ঞাপনের গল্পটি আমার ভাল লেগেছিল, কারন এটার মূল ভাবনা ছিল একাত্মতা প্রকাশ । আমার ভাবতে খুব খারাপ লাগছে, এই বিজ্ঞাপনটা কোনভাবে বিভেদ তৈরি করছে!কোনভাবেই সেটা আমার উদ্দেশ্য ছিলোনা।

যারা এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে লিখছেন, কথা বলছেন, আর ভাল মন্দ যাই ভাবছেন-আমি আপনাদের জানাতে চাই, আমি আপনাদের কথা শুনছি, শিখছি আর আর পরিণত হচ্ছি ।’

যে বিজ্ঞাপনচিত্রটি নিয়ে সমালোচনা বা বিতর্ক সেটিতে দেখা যায় একটি পাহাড়ি অঞ্চলের গল্প। আজানের শব্দ শোনা যায় না এমন একটি এলাকা। যেখানে রমজান মাসে সেহেরি ও ইফতারের সময় পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানদের আজানের সময় জানিয়ে দেয়া এক পাহাড়ি কিশোর রাফি। যাকে দৌড়ে গিয়ে বাঙালি মুসলমানদের ইফতার ও সেহরির সময় জানিয়ে দিতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের দাবি, এমন গল্পের মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর অনেকেই বিজ্ঞাপনটির ঘটনা প্রবাহ পাহাড়ি এলাকার পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্কের বাস্তব চিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া পাহাড়ি কিশোরের মুসলিম হওয়ার বিষয়টি এবং বিজ্ঞাপনে দেখানো পাহাড়ের মানুষের জীবনধারার কিছু অসঙ্গতির বিষয়েও অভিযোগ তুলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

এমন বিজ্ঞাপন নির্মাণ করায় দেশব্যাপী কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে জড়িতরা। তবে এই ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হন এটির নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন।

Facebook Comments

Check Also

ডিভোর্সের সিদ্ধান্তে সাবিলা!

টানাপড়নে দিন কাটছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের। ভালোবেসে এবং অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করলেন সাবিলা নূর। …