Wednesday , November 13 2019
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / ক্রিকেট / পাপনকে কিছুটা হলেও ‘বাঁচিয়ে’ দিলেন সাকিব

পাপনকে কিছুটা হলেও ‘বাঁচিয়ে’ দিলেন সাকিব

আইসিসি থেকে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিসিবিতে এসে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সঙ্গে এসেছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেদিন কেবলই নিজের লিখিত বক্তব্য পড়ে গিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এর বাইরে শুধু বলেছিলেন, আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবো।

তবে তার প্রায় চারদিন পর শুক্রবার (০২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ১১ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সাকিব যে পোস্টটি দিলেন তাতে ক্ষুব্ধ দর্শক-সমর্থকদের বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেলো।

সেদিনের সংবাদ সম্মেলন কিছুটা বড় করেছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। নিজের জায়গা থেকে যথেষ্ট পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। আশ্বাস দিয়েছিলেন সাকিবের পাশে থাকার। সঙ্গে বলেছিলেন, সাকিব সাক্ষী, এই ব্যাপার (সাকিব যে শাস্তি পেতে যাচ্ছেন) আমি আগে জানতাম না।

দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের বেশিরভাগই পাপনের সেই কথা বিশ্বাস করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সব জায়গায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন পাপন। সাকিবভক্তরা দাবি করতে থাকেন, আইসিসির দেয়া এই শাস্তির পেছনে হাত আছে বিসিবির। এজন্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর সমর্থকদের বিক্ষোভে পাপনবিরোধী স্লোগানও দেয়া হয়।

নিজেদের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তারা তুলে আনেন বেশি কিছুদিন আগে বোর্ড সভাপতির বক্তব্যকে। ক্রিকেটারদের আন্দোলনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে পাপন খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের পাশাপাশি ফিক্সিংয়ের বিষয়েও আভাস দেন।

ক্ষুব্ধ পাপন তখন বলেছিলেন, অল্প দিনের মধ্যেই ফিক্সিংয়ের রিপোর্ট আসছে। আপনারা চিন্তা কইরেন না।

তার এই বক্তব্যের কিছুদিনের মধ্যেই আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শাস্তি দেয়া হয় সাকিবকে। আর তাই সাকিবের বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে বোর্ড সভাপতির বক্তব্য অবিশ্বাস করতে থাকেন সাকিবভক্তরা।

এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার একটি ভিডিও। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও। সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল অস্বস্তি চাপা থাকেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্যাসিনি একটি অপরাধ। সেহেতু যারা এ অপরাধ করছে তাদের আমরা শাস্তি দিচ্ছি। এখন অনেকের কথাই শুনেছি বাইরে এসব করতে। তবে আমি এখন দেখিনি, শুনেছি। তাই এসব নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। তবে সবাইকেই শাস্তি পাওয়া উচিত।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল যখন দিল্লিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের বিপক্ষে বহু প্রতীক্ষিত সিরিজে মাঠে নামার। ঠিক তখন কঠিন একটা সময় পার করছে বিসিবি; বিশেষ করে বিসিবি সভাপতি পাপন।

এমন সময় নীরবতা ভেঙে ফেসবুকে নিজের অবস্থান জানালেন সাকিব আল হাসান। তার ওই পোস্টে উঠে এলো বেশি কিছু প্রশ্নের জবাব।

পোস্টে সাকিব লিখেছেন, ‘আমার সকল সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা, আমি এই বলে শুরু করতে চাই যে, আমার ও আমার পরিবারের দুঃসময়ে আপনাদের নিঃস্বার্থ সমর্থন ও ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার মর্ম গত কয়েকদিনে আমি সবচেয়ে ভালোভাবে অনুভব করতে পেরেছি। আমি সবাইকে শান্ত থাকা ও ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি যারা আমাকে দেওয়া শাস্তির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

বিসিবি সভাপতির নাম উল্লেখ না করলেও সাকিবের পরের কথাতে বিসিবি সভাপতির দুই ধরনের বক্তব্যের কিছুটা ব্যাখ্যা মেলে।

সাকিব লিখেন, আমি নিশ্চিত করতে চাই, আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিটের পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত গোপনীয় এবং শাস্তি ঘোষণার মাত্র কদিন আগে খোদ বিসিবি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারে। সেই সময় থেকে বিসিবিই আমাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে এবং এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।

অর্থাৎ, বিসিবি কিংবা বিসিবি সভাপতি বিষয়টি অল্প কিছুদিন আগে জানতে পেরেছেন। সেটা হয়তো ক্রিকেটারদের আন্দোলনের অল্প কিছুদিনের মধ্যে অথবা আন্দোলনের মধ্যে। সে কারণেই হয়তো ফিক্সিংয়ের রিপোর্ট আসছে বলে সংবাদ সম্মেলনে ‘ঔদ্ধত্য’ প্রকাশ করেছিলেন পাপন। তবে পাপন সেদিন যাই বলুক না কেনো, সাকিব বলছেন, ঘটনা জানার পর থেকে বিসিবি তাকে সহায়তা করে যাচ্ছে এবং এজন্য বোর্ডের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

এরপর সাকিব যেটা বললেন তাতে কোনো আশার আলো নেই।

‘আমি বুঝতে পারি, কেনো আমাকে এত মানুষ সাহায্য করতে চাইছেন এবং সেটার মূল্যায়ন আমি করি। যাইহোক, সবকিছুর একটা প্রক্রিয়া আছে। আর আমি আমাকে দেয়া শাস্তি মেনে নিয়েছি, কারণ এটা যৌক্তিক ছিলো।’

অর্থাৎ, আইসিসি যে শাস্তি দিয়েছে তা আর কমার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারোরই খুব বেশি কিছু করার নেই এখানে।

তাই সাকিবের লক্ষ্য এখন একটাই- নির্ধারিত সময় পর ঠিকঠাকমতো ক্রিকেটে ফিরে আসা।

‘এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য মাঠে ফেরা এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশের হয়ে খেলা। ততদিন পর্যন্ত আমাকে হৃদয়ে রাখবেন, প্রার্থনায় রাখবেন। ধন্যবাদ।’

 

Facebook Comments

Check Also

মোস্তাফিজকে নিয়ে বিরক্ত বিসিবি সভাপতি

ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি দেখতে এসেছিলেন বিসিবি সভাপতি। নাগপুরের ম্যাচে তাকে …